বুধবার, ২৯ Jul ২০২৬, ০৬:৪২ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ বরিশালে লজিক ডিবেটিং ক্লাবের নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি হাসিবুর, সম্পাদক সিয়াম বাড়ইকান্দি পবিত্র ঈদুল-আযহা উপলক্ষে নাইট প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বিবাহিত বনাম অবিবাহিত খেলা অনুষ্ঠিত গৌরনদীতে জিয়াউর রহমান’র শাহদাত বার্ষিকী পালন গাঁজা ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে রিপোর্ট করায় ফেসবুকে হুমকি থানায় মামলার আবেদন। তজুমদ্দিনে অস্ত্র, কার্তুজ ও রকেট ফ্লেয়ারসহ কুখ্যাত ডাকাত হেজু গ্রেফতার। বরিশালে প্রেমিকের বাসায় গিয়ে খুন হলেন প্রেমিকা উজিরপুরে মামলার এক বছর: আসামি গ্রেফতারে পুলিশের বিরুদ্ধে অনীহার অভিযোগ ইউএনও ও সাংবাদিকের যৌথ উদ্যোগে মাথা গোঁজার ঠাঁই ও কর্মসংস্থান পেলেন অসহায় মাহিনুর বাকেরগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধে হামলায় যুবকের মৃত্যু বরিশালের জেল খাল গিলে খাচ্ছে বহুতলা ভবন: নেপথ্যে সিটি কর্পোরেশনের ‘দুর্নীতিবাজ’ চক্র! পৌরসভার ময়লা পরিষ্কার করে সংসার চালান বিধবা তাহমিনা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন সম্পন্ন ব্যাংকের উচ্চ পর্যায়ে নারীর অংশ বাড়ছে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে জ্বালানিবাহী ৮ জাহাজ আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি আসামির
বিশ্বকাপ ফাইনালের আমেজ দেশজুড়ে

বিশ্বকাপ ফাইনালের আমেজ দেশজুড়ে

অনুসন্ধান ডেস্ক: প্রায় মাসজুড়ে চলা ফুটবল উন্মাদনাকে বিদায় জানানোর সময় এসেছে। শেষ মুহূর্তের ফুটবল জ্বরে কাঁপছে দেশ। কাতারে আয়োজিত বিশ্বকাপ ফুটবলের শুরু থেকেই মাতোয়ারা বাংলাদেশ। পছন্দের দলের জার্সি পরা থেকে শুরু করে পতাকা টাঙানো, খেলা শেষে আনন্দ ও বিষাদের সব মিশ্রণ দেশের ফুটবলপ্রেমীদের চোখেমুখে।

টুর্নামেন্ট থেকে ব্রাজিল-জার্মানির মতো দল আগেই বিদায় নেওয়ায় কিছুটা নিশ্চুপ এসব দলের সমর্থকরা। অন্যদিকে বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছেন আর্জেন্টিনার ভক্তকুল। বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে দেশজুড়ে দেখা গেছে বাড়তি আমেজ।

ফুটবল বিশ্বকাপের শুরু থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যেন রূপ নিয়েছিল মিনি স্টেডিয়ামে। প্রথম ম্যাচ থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের টিএসসি চত্বর, স্বোপার্জিত স্বাধীনতা সংগ্রাম ভাস্কর্য চত্বর ও মুহসীন হল মাঠে তিনটি পৃথক জায়ান্ট স্ক্রিনে খেলা দেখানো হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ঢাকা শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নানা শ্রেণি-পেশা ও নানান বয়সের মানুষ খেলা দেখতে ভিড় জমান। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস যেন পরিণত হয় আরেক কাতারে। বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ নিয়ে ইতিমধ্যেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরাজ করছে বাড়তি উত্তেজনা।

ফরাসি সৌরভ নাকি আলবিসিলেস্তেদের ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান, তা জানার তর সইছে না ফুটবল ভক্তদের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী শিশির দাস সময়ের আলোকে বলেন, এবারের বিশ্বকাপ মেসির হাতেই সবচেয়ে বেশি মানাবে। ভালো খেলেই আর্জেন্টিনা ফ্রান্সকে হারাবে।

সেই ক্ষণটির জন্য আমরা অপেক্ষা করছি। ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্যরকম উন্মদনা বিরাজ করছে।  বিশ্বকাপের আঁচ অনেক আগেই লেগেছিল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাজমুস সাকিব বলেন, ‘পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরও ক্যাম্পাসে খেলা দেখার জন্য এখনও প্রচুর শিক্ষার্থীরা রয়েছেন। সবাই চাচ্ছেন এবার কাতার বিশ্বকাপের ফাইনাল একসঙ্গে ক্যাম্পাসে বড় পর্দায় দেখতে।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হারুন অর রশিদ বলেন, এবারের বিশ্বকাপ অন্যান্যবারের তুলনায় জাঁকজমকপূর্ণ হয়েছে। মেসির শেষ বিশ্বকাপ হওয়ায় বিশ্বকাপজুড়ে ছিল বাড়তি উন্মাদনা। শেষ ম্যাচকে ঘিরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের সাপোর্টাররা বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী রাশেদ জামান বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়েও কাতার বিশ্বকাপের শুরু থেকেই ক্যাম্পাসে বিরাজ করছিল প্রাণচাঞ্চল্য। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে বড় পর্দায় খেলা দেখতে রাতভর ভিড় করেন শিক্ষার্থীরা। ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে বিশ্বকাপ ফুটবল ক্যাম্পাসে এক ভিন্ন আমেজ তৈরি হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ন্যায় গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও বিশ্বকাপের এ উন্মাদনায় পিছিয়ে নেই। ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২২-এর ফাইনাল খেলা নিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাহিদ বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে আর্জেন্টিনা দলকে সমর্থন করি, আর যেহেতু এটা মেসির শেষ বিশ্বকাপ, তাই আমি চাই কাপটা যেন মেসি পায়। আমার বিশ্বাস, ২০১৪ সালের ন্যায় এবার আর মেসিকে খালি হাতে ফিরতে হবে না। শেষ হাসি খুদে জাদুকরই হাসবেন।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছে বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচের আমেজ। পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী সোনিয়া সুলতানা বলেন, এবারের একটাই প্রত্যাশা মেসির হাতে উঠুক ট্রফি। তবে আক্ষেপ হয়ে থাকবে ক্যাম্পাসে বড় পর্দায় খেলা দেখতে না পারা।

এমন বিশ্ব আসর সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আমরা দেখতে পারছি না। এমন ছোট ছোট আনন্দগুলো ক্যাম্পাসে উপভোগ করতে না পারা হতাশা তৈরি করেছে আমাদের মধ্যে। তবুও দিনশেষে হতাশা দূর হবে যদি আর্জেন্টিনা জেতে বিশ্বকাপ।

বিশ্বকাপ উন্মাদনায় শুরু থেকেই মেতেছিল দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ফাইনাল ম্যাচ নিয়ে বিশ্ববিদ্যলয়ের বাংলা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. ইমন হোসাইন খান শাওন বলেন, বিশে^র সব দেশের ন্যায় আমরাও জাতি হিসেবে ফুটবলপ্রিয় এক দেশ।

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চ থেকে শুরু করে হলের টিভি রুম কিংবা ক্লাস রুমেও সেই উন্মাদনার কমতি নেই। রাত জেগে ফুটবল দেখা, আরেক দিকে পরীক্ষা দেওয়া যেন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চ ও সেন্ট্রাল অডিটোরিয়ামে বড় পর্দায় খেলার দেখা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবারই প্রথম, সে আনন্দ প্রকাশ করার মতো না।

ফাইনাল ম্যাচ নিয়ে কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান শান্ত বলেন, চার বছর পর বিশ্বকাপ এসেছে। বিদায়ও নিচ্ছে চোখের পলকে। প্রিয় দল আর্জেন্টিনা শিরোপা থেকে এখন মাত্র এক ম্যাচ দূরে। আর্জেন্টিনার ফ্যান হয়ে তাদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মুহূর্তটি দেখতে আর তর সইছে না। এবারের বিশ্বকাপ মেসির হাতেই দেখতে চাই।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © অনুসন্ধান24 -২০১৯